রাত ১০:৩১ | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২০ ইং | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মেয়েটি আর জোৎস্না দেখেনা

সংবাদটি শেয়ার করুন

ঝর্ণা দে (ঝুনু): অবাক ব্যাপার! সাইকিয়াট্রিষ্ট ডাঃ সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক! খুব পরখ করে রোগীনিকে দেখছে আর তথ্য নিচ্ছে ডাক্তার। বহু ফোবিয়া রোগী দেখেছে কিন্তু জোৎস্না ফোবিয়া? বিস্ময় কপালে একটু ভাঁজ পড়ল ডাক্তারের।

 

রোগীনিকে প্রশ্ন করছে নিরুত্তর শুভ্রা। ওর নাম শুভ্রা। যা বলার সদ্য বিবাহিত স্বামী বলছে। ভাল বিয়েহয়েছে শুভ্রার। একটা সুন্দরী, আধুনিকা মেয়ে বলতে যা বোঝাই সবই আছে শুভ্রার মধ্যে।সেদিক দিয়ে একটা শিক্ষিতা সুন্দরী মেয়ের যা যা কাম্য সবই পেয়েছে সে। এক কথায় সুদর্শন বর, বরের ভাল বেতনের চাকুরী আবার বরটি তেমন রোমান্টিক, বলা যেতে পারে এক জোড়া “কপোত কপোতী “মানে সুখী পরিবার।

 

“জোৎস্না “মানেই একটা রোমান্টিক ব্যাপার -স্যাপার। যা নিয়ে কবি সাহিত্যিকদের লেখায় ঝড় ওঠে, কবিতা আর কাব্যের ফুলঝুড়ি ঝরে। নতুন প্রেমিক -প্রেমিকা হলে তো কথায় নেই। জোৎস্নার আলো ছায়াতে লুকোচুরি খেলে, তন্ময় হয়ে হারিয়ে ফেলে নিজেদের। আর যদি পূর্নিমার জোৎস্না হয় তোআরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। জোৎস্না উপভোগ করতে কে না চাই। আবাল -বৃদ্ধ -বনিতা দুচোখ ভরে উপভোগ করে ঈশ্বরের এই অকৃপন ও অপূর্ব দান।

 

আর এ জোৎস্না কে নিয়ে শুভ্রার বড় ভয়, বড় অসুখ। বর বেচারীর শান্তি নেই। নব দম্পতি পূর্নিমার শুভ্র জোৎস্না য় হারিয়ে যেতে চাই, গাইতে ইচ্ছে করে “কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা “…….”মিনি হানিমুনের স্বাদ পেতে চাই। কখনও ছাদে, কখনও বেলকোনিতে, কখনওবা খোলা নির্জন রাস্তায়। মন চাইলে হবে কি? বিধি বাম।শুভ্রা জোৎস্না সহ্য করতে পারে না।মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারে না। অতীতের কিছুস্মৃতি ভরা দিন,কিছু মুহূর্ত আর নিজের করা প্রতারনা কুঁড়ে কুঁড়ে খায় নিজেকে।

 

একদিন শুভ্রা নিজের নামের স্বার্থকতা রেখে “সাজিদের “হাতে হাত রেখেছিল প্রথমএই শুভ্র জোৎস্নাতে। খেলত লুকোচুরি এই জোৎস্নায়, হারিয়ে যেত তেপান্তরে সাজিদের হাত ধরে। সাজিদের বুকে মাথা রেখে শান্তিতে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিত, আর গায়ের গন্ধ নিত। পরম মমতায় জড়িয়ে রাখত নিজেকে, সাজিদের বুকে। অবাক জোৎস্নায় লুটোপুটি খেত সাজিদের সাথে।

 

কিন্তু আজ শুভ্রা নিজের নামের স্বার্থকতা রাখতে অপারক। জোৎস্না কে সে বড্ড ভয় পায়, ভয় পায় জোৎস্নার শুভ্র ও পবিত্র আলোকে। তাকাতে পারেনা, চোখ মুখ বন্ধ করে চিৎকার করে,সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে।

 

হয়তবা, পরিবারের চাপে কিংবা লোভের বশবর্তী হয়ে সাজিদের জোৎস্নার মত শুভ্র ভালবাসাকে উপেক্ষা করে নতুন সাজিদের হাত ধরেছে শুভ্রা। তবুও সাজিদের প্রেমের নূন্যতম সন্মান কিংবা শুভ্র জোৎস্নার অভিশাপে “শাপগ্রস্থ “শুভ্রা “আর জোৎস্না দেখে না”।

 

ডাক্তার কিছু ঔষুধ লিখে দিলেন। শুভ্রার স্বামীকে বললেন, শুনুন মিঃ পেসেন্ট জ্যোৎস্না দেখতে না চাইলে জোর করবেন না। তবে মাঝে মাঝে আপোষে চেষ্টা করে দেখবেন। ও আর একটি কথা আপনার স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করুন, কেন সে এমন আচরন করে। আর জ্যোৎস্না নিয়ে তার মনের ভিতরে কষ্টের কোন জায়গা আছে কিনা?

 

এখনো নিরুত্তর শুভ্রা……!

 

(সংক্ষিপ্ত প্রকাশ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আলফাডাঙ্গায় ভাঙনে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি মধুমতিতে

» অনন্য উচ্চতায় শেখ হাসিনা

» সংবাদ প্রকাশের জের মাদককারবারির হামলায় আহত সাংবাদিক মুজাহিদ

» আলফাডাঙ্গায় জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যকে হত্যার হুমকি

» আলফাডাঙ্গায় উন্নয়ন মেলা শুরু

» তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদকে বনপা’র অভিনন্দন

» আলফাডাঙ্গায় গরীব-দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

» আলফাডাঙ্গায় বিজয় দিবস উদযাপন

» ছাত্রলীগে ঠিকাদার, কাশিয়ানিতে মহাসড়ক অবরোধ

» আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও তিন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাই সম্পন্ন

» “নেশা মুক্ত সমাজ গড়ি এসো সবাই খেলা ধুলা করি” BWFA

» গোপালপুর ইউপি নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী ইনামুলের মনোনয়ন দাখিল

» “স্মৃতিচারণ”

» গোপালপুর ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন ইনামুল হাসান

» আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও তিন ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত


সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন
সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
01738106357,01715473190,01985082254
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।

রাত ১০:৩১, ,

মেয়েটি আর জোৎস্না দেখেনা

সংবাদটি শেয়ার করুন

ঝর্ণা দে (ঝুনু): অবাক ব্যাপার! সাইকিয়াট্রিষ্ট ডাঃ সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক! খুব পরখ করে রোগীনিকে দেখছে আর তথ্য নিচ্ছে ডাক্তার। বহু ফোবিয়া রোগী দেখেছে কিন্তু জোৎস্না ফোবিয়া? বিস্ময় কপালে একটু ভাঁজ পড়ল ডাক্তারের।

 

রোগীনিকে প্রশ্ন করছে নিরুত্তর শুভ্রা। ওর নাম শুভ্রা। যা বলার সদ্য বিবাহিত স্বামী বলছে। ভাল বিয়েহয়েছে শুভ্রার। একটা সুন্দরী, আধুনিকা মেয়ে বলতে যা বোঝাই সবই আছে শুভ্রার মধ্যে।সেদিক দিয়ে একটা শিক্ষিতা সুন্দরী মেয়ের যা যা কাম্য সবই পেয়েছে সে। এক কথায় সুদর্শন বর, বরের ভাল বেতনের চাকুরী আবার বরটি তেমন রোমান্টিক, বলা যেতে পারে এক জোড়া “কপোত কপোতী “মানে সুখী পরিবার।

 

“জোৎস্না “মানেই একটা রোমান্টিক ব্যাপার -স্যাপার। যা নিয়ে কবি সাহিত্যিকদের লেখায় ঝড় ওঠে, কবিতা আর কাব্যের ফুলঝুড়ি ঝরে। নতুন প্রেমিক -প্রেমিকা হলে তো কথায় নেই। জোৎস্নার আলো ছায়াতে লুকোচুরি খেলে, তন্ময় হয়ে হারিয়ে ফেলে নিজেদের। আর যদি পূর্নিমার জোৎস্না হয় তোআরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। জোৎস্না উপভোগ করতে কে না চাই। আবাল -বৃদ্ধ -বনিতা দুচোখ ভরে উপভোগ করে ঈশ্বরের এই অকৃপন ও অপূর্ব দান।

 

আর এ জোৎস্না কে নিয়ে শুভ্রার বড় ভয়, বড় অসুখ। বর বেচারীর শান্তি নেই। নব দম্পতি পূর্নিমার শুভ্র জোৎস্না য় হারিয়ে যেতে চাই, গাইতে ইচ্ছে করে “কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা “…….”মিনি হানিমুনের স্বাদ পেতে চাই। কখনও ছাদে, কখনও বেলকোনিতে, কখনওবা খোলা নির্জন রাস্তায়। মন চাইলে হবে কি? বিধি বাম।শুভ্রা জোৎস্না সহ্য করতে পারে না।মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারে না। অতীতের কিছুস্মৃতি ভরা দিন,কিছু মুহূর্ত আর নিজের করা প্রতারনা কুঁড়ে কুঁড়ে খায় নিজেকে।

 

একদিন শুভ্রা নিজের নামের স্বার্থকতা রেখে “সাজিদের “হাতে হাত রেখেছিল প্রথমএই শুভ্র জোৎস্নাতে। খেলত লুকোচুরি এই জোৎস্নায়, হারিয়ে যেত তেপান্তরে সাজিদের হাত ধরে। সাজিদের বুকে মাথা রেখে শান্তিতে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিত, আর গায়ের গন্ধ নিত। পরম মমতায় জড়িয়ে রাখত নিজেকে, সাজিদের বুকে। অবাক জোৎস্নায় লুটোপুটি খেত সাজিদের সাথে।

 

কিন্তু আজ শুভ্রা নিজের নামের স্বার্থকতা রাখতে অপারক। জোৎস্না কে সে বড্ড ভয় পায়, ভয় পায় জোৎস্নার শুভ্র ও পবিত্র আলোকে। তাকাতে পারেনা, চোখ মুখ বন্ধ করে চিৎকার করে,সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে।

 

হয়তবা, পরিবারের চাপে কিংবা লোভের বশবর্তী হয়ে সাজিদের জোৎস্নার মত শুভ্র ভালবাসাকে উপেক্ষা করে নতুন সাজিদের হাত ধরেছে শুভ্রা। তবুও সাজিদের প্রেমের নূন্যতম সন্মান কিংবা শুভ্র জোৎস্নার অভিশাপে “শাপগ্রস্থ “শুভ্রা “আর জোৎস্না দেখে না”।

 

ডাক্তার কিছু ঔষুধ লিখে দিলেন। শুভ্রার স্বামীকে বললেন, শুনুন মিঃ পেসেন্ট জ্যোৎস্না দেখতে না চাইলে জোর করবেন না। তবে মাঝে মাঝে আপোষে চেষ্টা করে দেখবেন। ও আর একটি কথা আপনার স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করুন, কেন সে এমন আচরন করে। আর জ্যোৎস্না নিয়ে তার মনের ভিতরে কষ্টের কোন জায়গা আছে কিনা?

 

এখনো নিরুত্তর শুভ্রা……!

 

(সংক্ষিপ্ত প্রকাশ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ




সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন
সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
01738106357,01715473190,01985082254
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।