রাত ৪:০৭ | বুধবার | ২৫শে মে, ২০২২ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাংসদ পদে দোলনকে প্রার্থী চায় আলফাডাঙ্গার জনগণ

সংবাদটি শেয়ার করুন

আগামী ৩ মার্চ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ২নং গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজন হয় প্রস্তুতি সভার। কামারগ্রামের বেগম শাহানারা একাডেমি প্রাঙ্গনে এ সভার আয়োজন করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন। তিনি ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময়ের সম্পাদক।

প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় নেতারা। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সবমিলিয়ে লোকের উপস্থিতি ছিল হাজারেরও বেশি।

বক্তৃতায় নেতারা বলেন, গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর রহমান দোলন যে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে তা দেখে মনে হচ্ছে ৩ মার্চের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। গোপালপুর ইউনিয়ন প্রমাণ করে দেবে এখানকার মানুষ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনাকে কতটা ভালোবাসে। পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে আরিফুর রহমান দোলনকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী চেয়ে দাবি তোলেন আওয়ামী লীগ ও আর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জনসভায় ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান থাকবেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন বলেন, ‘৩ মার্চ আওয়ামী লীগের জনসভা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম। দোলন এসে দায়িত্ব নেয়াতে আমরা দায়মুক্ত হয়েছি। তিনি এই অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় আর্থিকসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার দায়িত্ব নিয়েছেন। দোলন যে দায়িত্ব নিয়েছে এজন্য তাকে থানা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আরিফুর রহমান দোলনের ভেতরে রাজনীতির চিন্তা আসছে নৈতিকতার কারণে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে সবাই তার পাশে থাকবে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বাশার বলেন, ‘আজকের এই প্রস্তুতি সভা যে এতবড় হবে আমি জানতাম না। মুজিব আদর্শের পাগলেরা এখানে এসেছে, সমবেত হয়েছে, সবাইকে শুভেচ্ছা।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে দোলনকে আমরা যখন ডাকতাম সে মিছিলে এসে সমবেত হতো। আমরা সেদিন মনে করেছিলাম, আলফাডাঙ্গার মানুষের জন্য সে কিছু করবে। আজ তা সত্য হয়েছে।’

৩ মার্চের সভায় সার্বিক সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে নুরুল বাশার বলেন, ‘সুখে দুঃখে যে পাশে থাকে সেই প্রকৃত নেতা। দোলন ঢাকা থেকে এসে ৩ মার্চের জনসভা সফলের জন্য যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা নিঃসন্দেহের প্রশংসার দাবি রাখে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিকে আমরা পছন্দ করি না। ব্যক্তির চেয়ের দল বড়। দলের চেয়ে দেশ বড়। এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। দোলন এলজিআরডি মন্ত্রীর মাধ্যমে এই এলাকায় ১৭ কোটি টাকা এনেছে। এ এলাকার রাস্তা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চ কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মাঠে যে জনসভা, সেটি-আওয়ামী লীগের জনসভা, শেখ হাসিনার জনসভা। ৩ মার্চ সাংসদ আবদুর রহমান আপনি দেখে যাবেন আলফাডাঙ্গার মানুষ আওয়ামী লীগকে কতটা ভালোবাসে, শেখ হাসিনাকে কতটা ভালোবাসে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি পূজা করি না। শেখ হাসিনার রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। শেখ হাসিনা সবচেয়ে বড় শিল্পী। আওয়ামী লীগের জনসভায় ঢাকা থেকে শিল্পী আনার প্রয়োজন নেই।’
ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘একটি কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, আমি সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম, আছি, আমৃত্যু থাকবো।’

আওয়ামী লীগ নেতা দোলন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যদি না থাকতো কামারগ্রামে টিটিসির (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার) নাম উচ্চারণ করা যেতো না। গোটা আলফাডাঙ্গা উপজেলায় যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা অসম্ভব ছিল আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না থাকতো। উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রার কথা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে জানাতে হবে। এজন্য ৩ মার্চের জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। বিএনপি সময় সন্ধ্যার মধ্যে ঘরে ঢুকতে হতো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল। আর এখন আপনারা দীর্ঘ রাত পর্যন্ত এখানে উপস্থিত আছেন। নিরাপত্তার কোনো ভয় নেই।’

আরিফুর রহমান বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চের জনসভায় আমরা জানিয়ে দেবো শেখ হাসিনার সময় কী পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগের উন্নয়ন দেখে বিএনপি থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন। বেগম জিয়ার পায়ের নিচের মাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। আগামীতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে আপনাদের আরও সজাগ থাকতে হবে।’

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফার বলেন, ‘আমরা যদি কাউকে ভালোবাসি মনে মনে রাখবো। এমন কোনো আচরণ সভায় করবো না যাতে তার সুনাম নষ্ট হয়। ৩ মার্চের জনসভা শেখ হাসিনার নির্দেশে হচ্ছে। তাই কারো মনে আঘাত লাগে এমন কোনো আচরণ যেন সভায় না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবুল কাশেম মন্ডল ওরফে কাসেদ মন্ডল বলেন, ‘আরিফুর রহমান দোলন আজকে এই সভা ডেকেছে, আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। আগামী ৩ মার্চের সভা সুন্দর হোক। বলতে আমার দ্বিধা নেই, আগামী নির্বাচনে যিনি নৌকা প্রতীক পাবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। নৌকার বাইরে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই।’

বুড়াইচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল ওয়াহাব পান্নু বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চের সভা সফল করে জানিয়ে দেবো, আমরা নৌকার সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমরা সঠিক সময়ে সঠিক নেতৃত্ব পেয়েছি। আগামী নির্বাচনে এই নেতৃত্বকে আমরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেখতে চাই। নৌকা থাকবে যার হাতে আমরা আছি তার সাথে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘দোলন ভাইকে ধন্যবাদ যে তিনি ৩ মার্চের সমাবেশকে সফল করার এজন্য এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছেন। তিনি যেভাবে জনসভাকে সফল করার জন্য চেষ্টা করছেন এজন্য তাকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সবাই যোগ দিয়ে জনসভা সফল করবো এই কথা দিচ্ছি।’

টগরবন্দ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কামারগ্রামের দোলন ভাই শুধু গোপালপুর ইউনিয়নের সন্তান না, তিনি টগরবন্দ ইউনিয়নেরও সন্তান। তিনি মাটি ও মানুষের রাজনীতি করেন, খেটে খাওয়া মানুষের রাজনীতি করেন, যেভাবে আমাদের বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতি করছেন। আমরা চাই দোলন ভাই রাজনীতি করে এগিয়ে যাক। তিনি আগামীতে নৌকা মার্কা নিয়ে হাজির হোক। আমরা তার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাবো। মাথায় কাপড় বেধে দিন রাত পরিশ্রম করবো তার বিজয়ের জন্য, নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করবো। আমরা ওয়াদা দিচ্ছি আপনার থেকে এক ইঞ্চিও সরে যাবো না।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌকির আহমেদ ডালিম বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চে আওয়ামী লীগের জনসভায় সার্বিক দায়িত্ব পালন করবো।’

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে নির্দেশ দিয়েছেন আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের যার যার এলাকায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরতে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩ মার্চ গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীতে আমরা এমন একজন ব্যক্তিত্বকে নেতৃত্বে বেছে নেবো যার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন হয়। ফরিদপুর-১ আসনের উন্নয়ন হয়। আলফাডাঙ্গাবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা কাউকে মনোনয়ন দিলে আমরা তাকে নির্বাচিত করবো। তারুণ্যের দীপ্তমান নেতা আরিফুর রহমান দোলনকে সামনে নিয়ে আমরা নেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইবো। তিনি দোলন ভাইকে মনোনয়ন দিলে আমরা তার যথাযথ মূল্যায়ন করবো।’

২নং গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইনামুল হাসান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আসলে আলফাডাঙ্গায় উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই এই অঞ্চলে উন্নয়ন হচ্ছে। আগমাীতেও হবে। গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। আগামী ৩ মার্চ আমরা তা প্রমাণ করে দিতে চাই।’

প্রস্তুতি সভার সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান ইকু।
তিনি বলেন, ‘দোলন ভাই আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী এবং মধুখালী উপজেলায় এমন উন্নয়নের কাজ করুক, যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৌকা হাতে তুলে দেন।

ফরিদপুর জেলা পরিষদ সদস্য শেখ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তৃতা করেন, গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু, গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা হাসমত আলী কাজল। সভায় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুড়াইচ ইউনিয়ন সদস্য তরিকুল ইসলাম যুবলীগে যোগ দেন। সভা শেষে নৈশ্যভোজের ব্যবস্থা ছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আলফাডাঙ্গায় ভাঙনে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি মধুমতিতে

» অনন্য উচ্চতায় শেখ হাসিনা

» সংবাদ প্রকাশের জের মাদককারবারির হামলায় আহত সাংবাদিক মুজাহিদ

» আলফাডাঙ্গায় জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যকে হত্যার হুমকি

» আলফাডাঙ্গায় উন্নয়ন মেলা শুরু

» তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদকে বনপা’র অভিনন্দন

» আলফাডাঙ্গায় গরীব-দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

» আলফাডাঙ্গায় বিজয় দিবস উদযাপন

» ছাত্রলীগে ঠিকাদার, কাশিয়ানিতে মহাসড়ক অবরোধ

» আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও তিন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাই সম্পন্ন

» “নেশা মুক্ত সমাজ গড়ি এসো সবাই খেলা ধুলা করি” BWFA

» গোপালপুর ইউপি নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী ইনামুলের মনোনয়ন দাখিল

» “স্মৃতিচারণ”

» গোপালপুর ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন ইনামুল হাসান

» আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও তিন ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত


সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন
সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
01738106357,01715473190,01985082254
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।

রাত ৪:০৭, ,

সাংসদ পদে দোলনকে প্রার্থী চায় আলফাডাঙ্গার জনগণ

সংবাদটি শেয়ার করুন

আগামী ৩ মার্চ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ২নং গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজন হয় প্রস্তুতি সভার। কামারগ্রামের বেগম শাহানারা একাডেমি প্রাঙ্গনে এ সভার আয়োজন করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন। তিনি ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময়ের সম্পাদক।

প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় নেতারা। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সবমিলিয়ে লোকের উপস্থিতি ছিল হাজারেরও বেশি।

বক্তৃতায় নেতারা বলেন, গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর রহমান দোলন যে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে তা দেখে মনে হচ্ছে ৩ মার্চের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। গোপালপুর ইউনিয়ন প্রমাণ করে দেবে এখানকার মানুষ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনাকে কতটা ভালোবাসে। পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে আরিফুর রহমান দোলনকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী চেয়ে দাবি তোলেন আওয়ামী লীগ ও আর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জনসভায় ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান থাকবেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন বলেন, ‘৩ মার্চ আওয়ামী লীগের জনসভা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম। দোলন এসে দায়িত্ব নেয়াতে আমরা দায়মুক্ত হয়েছি। তিনি এই অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় আর্থিকসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার দায়িত্ব নিয়েছেন। দোলন যে দায়িত্ব নিয়েছে এজন্য তাকে থানা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আরিফুর রহমান দোলনের ভেতরে রাজনীতির চিন্তা আসছে নৈতিকতার কারণে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে সবাই তার পাশে থাকবে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বাশার বলেন, ‘আজকের এই প্রস্তুতি সভা যে এতবড় হবে আমি জানতাম না। মুজিব আদর্শের পাগলেরা এখানে এসেছে, সমবেত হয়েছে, সবাইকে শুভেচ্ছা।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে দোলনকে আমরা যখন ডাকতাম সে মিছিলে এসে সমবেত হতো। আমরা সেদিন মনে করেছিলাম, আলফাডাঙ্গার মানুষের জন্য সে কিছু করবে। আজ তা সত্য হয়েছে।’

৩ মার্চের সভায় সার্বিক সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে নুরুল বাশার বলেন, ‘সুখে দুঃখে যে পাশে থাকে সেই প্রকৃত নেতা। দোলন ঢাকা থেকে এসে ৩ মার্চের জনসভা সফলের জন্য যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা নিঃসন্দেহের প্রশংসার দাবি রাখে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিকে আমরা পছন্দ করি না। ব্যক্তির চেয়ের দল বড়। দলের চেয়ে দেশ বড়। এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। দোলন এলজিআরডি মন্ত্রীর মাধ্যমে এই এলাকায় ১৭ কোটি টাকা এনেছে। এ এলাকার রাস্তা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চ কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মাঠে যে জনসভা, সেটি-আওয়ামী লীগের জনসভা, শেখ হাসিনার জনসভা। ৩ মার্চ সাংসদ আবদুর রহমান আপনি দেখে যাবেন আলফাডাঙ্গার মানুষ আওয়ামী লীগকে কতটা ভালোবাসে, শেখ হাসিনাকে কতটা ভালোবাসে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি পূজা করি না। শেখ হাসিনার রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। শেখ হাসিনা সবচেয়ে বড় শিল্পী। আওয়ামী লীগের জনসভায় ঢাকা থেকে শিল্পী আনার প্রয়োজন নেই।’
ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘একটি কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, আমি সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম, আছি, আমৃত্যু থাকবো।’

আওয়ামী লীগ নেতা দোলন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যদি না থাকতো কামারগ্রামে টিটিসির (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার) নাম উচ্চারণ করা যেতো না। গোটা আলফাডাঙ্গা উপজেলায় যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা অসম্ভব ছিল আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না থাকতো। উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রার কথা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে জানাতে হবে। এজন্য ৩ মার্চের জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। বিএনপি সময় সন্ধ্যার মধ্যে ঘরে ঢুকতে হতো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল। আর এখন আপনারা দীর্ঘ রাত পর্যন্ত এখানে উপস্থিত আছেন। নিরাপত্তার কোনো ভয় নেই।’

আরিফুর রহমান বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চের জনসভায় আমরা জানিয়ে দেবো শেখ হাসিনার সময় কী পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগের উন্নয়ন দেখে বিএনপি থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন। বেগম জিয়ার পায়ের নিচের মাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। আগামীতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে আপনাদের আরও সজাগ থাকতে হবে।’

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফার বলেন, ‘আমরা যদি কাউকে ভালোবাসি মনে মনে রাখবো। এমন কোনো আচরণ সভায় করবো না যাতে তার সুনাম নষ্ট হয়। ৩ মার্চের জনসভা শেখ হাসিনার নির্দেশে হচ্ছে। তাই কারো মনে আঘাত লাগে এমন কোনো আচরণ যেন সভায় না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবুল কাশেম মন্ডল ওরফে কাসেদ মন্ডল বলেন, ‘আরিফুর রহমান দোলন আজকে এই সভা ডেকেছে, আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। আগামী ৩ মার্চের সভা সুন্দর হোক। বলতে আমার দ্বিধা নেই, আগামী নির্বাচনে যিনি নৌকা প্রতীক পাবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। নৌকার বাইরে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই।’

বুড়াইচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল ওয়াহাব পান্নু বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চের সভা সফল করে জানিয়ে দেবো, আমরা নৌকার সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমরা সঠিক সময়ে সঠিক নেতৃত্ব পেয়েছি। আগামী নির্বাচনে এই নেতৃত্বকে আমরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেখতে চাই। নৌকা থাকবে যার হাতে আমরা আছি তার সাথে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘দোলন ভাইকে ধন্যবাদ যে তিনি ৩ মার্চের সমাবেশকে সফল করার এজন্য এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছেন। তিনি যেভাবে জনসভাকে সফল করার জন্য চেষ্টা করছেন এজন্য তাকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সবাই যোগ দিয়ে জনসভা সফল করবো এই কথা দিচ্ছি।’

টগরবন্দ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কামারগ্রামের দোলন ভাই শুধু গোপালপুর ইউনিয়নের সন্তান না, তিনি টগরবন্দ ইউনিয়নেরও সন্তান। তিনি মাটি ও মানুষের রাজনীতি করেন, খেটে খাওয়া মানুষের রাজনীতি করেন, যেভাবে আমাদের বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতি করছেন। আমরা চাই দোলন ভাই রাজনীতি করে এগিয়ে যাক। তিনি আগামীতে নৌকা মার্কা নিয়ে হাজির হোক। আমরা তার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাবো। মাথায় কাপড় বেধে দিন রাত পরিশ্রম করবো তার বিজয়ের জন্য, নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করবো। আমরা ওয়াদা দিচ্ছি আপনার থেকে এক ইঞ্চিও সরে যাবো না।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌকির আহমেদ ডালিম বলেন, ‘আগামী ৩ মার্চে আওয়ামী লীগের জনসভায় সার্বিক দায়িত্ব পালন করবো।’

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে নির্দেশ দিয়েছেন আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের যার যার এলাকায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরতে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩ মার্চ গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীতে আমরা এমন একজন ব্যক্তিত্বকে নেতৃত্বে বেছে নেবো যার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন হয়। ফরিদপুর-১ আসনের উন্নয়ন হয়। আলফাডাঙ্গাবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা কাউকে মনোনয়ন দিলে আমরা তাকে নির্বাচিত করবো। তারুণ্যের দীপ্তমান নেতা আরিফুর রহমান দোলনকে সামনে নিয়ে আমরা নেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইবো। তিনি দোলন ভাইকে মনোনয়ন দিলে আমরা তার যথাযথ মূল্যায়ন করবো।’

২নং গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইনামুল হাসান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আসলে আলফাডাঙ্গায় উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই এই অঞ্চলে উন্নয়ন হচ্ছে। আগমাীতেও হবে। গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। আগামী ৩ মার্চ আমরা তা প্রমাণ করে দিতে চাই।’

প্রস্তুতি সভার সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান ইকু।
তিনি বলেন, ‘দোলন ভাই আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী এবং মধুখালী উপজেলায় এমন উন্নয়নের কাজ করুক, যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৌকা হাতে তুলে দেন।

ফরিদপুর জেলা পরিষদ সদস্য শেখ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তৃতা করেন, গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু, গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা হাসমত আলী কাজল। সভায় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুড়াইচ ইউনিয়ন সদস্য তরিকুল ইসলাম যুবলীগে যোগ দেন। সভা শেষে নৈশ্যভোজের ব্যবস্থা ছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ




সম্পাদক : মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম
প্রকাশক : মাহির শাহরিয়ার শিশির
বার্তা সম্পাদক: সৈকত মাহমুদ
নির্বাহী সম্পাদক : মনেম শাহরিয়ার শাওন
সম্পাদকীয় কার্যালয় : সুইট :৩০০৯, লেভেল : ০৩, হাজি
আসরাফ শপিং কমপ্লেক্স, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা
01738106357,01715473190,01985082254
fb.com/bartakantho | info@bartakantho.com

Design & Devaloped BY The Creation IT BD Limited | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © বার্তাকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।